বরিশালের সরকারি হাসপাতাল গুলোতে হাম আক্রান্ত শিশুদের আগমনী মিছিল থামছেই না। ইতোমধ্যে শুধু সরকারি হাসপাতালেই হাম সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার ছুঁতে চলেছে। এরমধ্যে হাসপাতালগুলোতে ভর্তিকৃত শিশুর সংখ্যা ১১ হাজার ১৮০। ছাড়পত্র পেয়েছে ১০,৬১৮। যারমধ্যে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা প্রায় ৫শ। আর সরকারি হাসপাতালেই মৃতের সংখ্যাও অর্ধশত ছুঁয়েছে।

গত মে মাসে এ অঞ্চলের সরকারি হাসপাতালে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার সন্দেহভাজন হাম রোগী চিকিৎসার জন্য আসে। এরমধ্যে ১১১ জনই নিশ্চিত হাম রোগী। মৃত্যুর তালিকায়ও মে মাসটি ছিল ভয়াবহ। ঐ মাসে বরিশালের সরকারি হাসপাতালেই ২৫টি শিশুর মৃত্যু হয়। আর জুন মাসে মৃতের সংখ্যা ৪ জনে নেমে এলেও বিদায়ী এ মাসে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যাটা ছিল ২৫৭। যা আগের মাসে ছিল ১১১। তবে জুনে হাসপাতালে ভর্তিকৃত হাম রোগীর সংখ্যা ছিল ৩,৮৭৫।

সব মিলিয়ে প্রাণঘাতী রোগ হাম বরিশালের শিশুদের পিছু ছাড়ছে না। সম্প্রতি সারা দেশের মত বরিশাল অঞ্চলে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত প্রায় ৯৮ভাগ শিশুর হাম প্রতিরোধী টিকা প্রদান সম্পন্ন হয়েছে। তবে মৃত শিশুদের প্রায় সবাই টিকার বাইরে ছিল বলে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে।

বরিশাল মহানগরী ছাড়াও বিভাগের ঝুঁকিপূর্ণ ৫টি উপজেলাতে বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন সম্পন্ন হবার পরেও হাম আক্রান্ত শিশুর মিছিল থামছে না। এর পেছনে সুস্পষ্ট কারণ এখনো চিহ্নিত করা সম্ভব না হলেও বিষয়টি নিয়ে মাঠ পর্যায়ে সরেজমিনে অনুসন্ধান চলছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল মহল জানিয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, সরকারি হাসপাতালে হামের সন্দেহভাজন যেসব শিশু আসছে, তার বাইরেও বিপুল সংখ্যক শিশু বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও চিকিৎসকদের চেম্বারেও চিকিৎসা গ্রহণ করছে। কিন্তু তাদের কোন হিসেবে সরকারি পরিসংখ্যানে নেই। ফলে সরকারি হাসপাতালের হিসেবই চূড়ান্ত নয় বলে মনে করছেন এসব চিকিৎসকগণ।