কোনো প্রকার ঘুষ বা অনৈতিক লেনদেন ছাড়াই শুধুমাত্র যোগ্যতা বলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৫৭ জনকে। তাদের চাকরি পেতে আবেদনপত্র বাবদ তাদের খরচ হয়েছে মাত্র ৬০ টাকা।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ২০তম গ্রেডে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের ওরিয়েন্টেশন বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ফুল দিয়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের বরণ করে নেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ।
এসময় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ। তিনি বলেন, কোনো প্রকার তদবির অথবা টাকা দিয়ে কেউ পেয়েছে, এমন প্রমাণ দিতে পারলে চাকরি ছেড়ে দেব।
কোনো প্রকার তদবির বা ঘুষ ছাড়া চাকরি পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীরা। এমনকি ইতোপূর্বে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রতিটি নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছাতা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তারা।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও এর অধীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কার্যালয় এবং বরিশাল সার্কিট হাউসে ২০তম গ্রেডের ৮২টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
ওই নিয়োগের আবেদন গ্রহণ শুরু হয় ৩০ অক্টোবর এবং শেষ হয় একই বছরের ২৯ নভেম্বর। অনলাইনে আবদন গ্রহণ করে সম্প্রতি নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে ৮২টি পদের মধ্যে ৫৭টি পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন বিভাগীয়র কমিশনার মো. খলিল আহমেদ।
চাকরিতে যোগ দেওয়া জুলহাস হোসেন, হাসি আক্তার, মোহাম্মদ বুলবুল ইসলামসহ নিয়োগপ্রাপ্ত অন্য কর্মচারীরা বলেন, বিগত দিনে ৫ থেকে সাতবার ভাইভা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। মেধা থাকা সত্ত্বেও সে সময় চাকরি পাইনি। তবে দীর্ঘদিন পরে হলেও কোন প্রকার লেনদেন ও তদবির ছাড়াই মাত্র ৬০ টাকা খরচ করে সরকারি চাকরি পেয়েছি। এর থেকে বড় আনন্দের আর কিছু হতে পারে না। কর্মজীবনে সততার সাথে মানুষের সেবার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তারা।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মামুন খন্দকার বলেন, কোন প্রকার তদবির ও অর্থনৈতিক লেনদেন ছাড়া যে চাকরি পাওয়া যায়- সদ্য যোগদানকারী কর্মচারীরাই তার বড় প্রমাণ। আর কেউ না জানুক যারা নিয়োগ পেয়েছেন তারাই জানেন কীভাবে তাদের নিয়োগ হয়েছে। তার স্বচ্ছভাবে নিয়োগ পেয়েছেন- এবং স্বচ্ছভাবেই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ বলেন, কোনো প্রকার চাপের কাছে নতিস্বীকার করিনি। বরিশালে যোগদান করার পর বরিশালসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় শতাধিক নিয়োগ দিয়েছি। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে কারো কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ হয়েছে তবে এ চাকরি ছেড়ে দেব।
তিনি আরও বলেন, ২৪ এর জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান যে কারণে হয়েছে, তার সুফল পেয়েছেন সদ্য নিয়োগপ্রাপ্তরা। কর্মক্ষেত্রে তারা সততা, নিষ্ঠার সাথে মানুষের সেবা এবং দায়িত্ব পালন করবেন।

