বরিশালের গৌরনদীতে একই গেজেট নম্বর ব্যবহার করে দুই ব্যক্তি বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি ও ভাতা পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একজন ইতোমধ্যে মারা গেছেন, অন্যজন জীবিত। বিষয়টি নিয়ে পুনঃতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দায়িত্ব দেওয়ার ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়নি।

অভিযোগকারী প্রয়াত নুরুল ইসলামের ছেলে মো. নাসিরের দাবি, তাঁর বাবা গৌরনদীর সরিকল গ্রামের বাসিন্দা ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তাঁর গেজেট নম্বর ৩৪৯৩। ২০২০ সালের ১৭ আগস্ট মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারি ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।

নাসিরের অভিযোগ, তাঁর বাবার গেজেট নম্বর ব্যবহার করে মুলাদীর গাছুয়া এলাকার আরেক নুরুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এমআইএসে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এবং বর্তমানে ভাতা পাচ্ছেন। বিষয়টি জানার পর তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগের পর স্থানীয় পর্যায়ে তদন্তও হয় বলে দাবি নাসিরের। তাঁর ভাষ্য, ওই সময় মুলাদীর নুরুল ইসলাম মুচলেকা দিয়ে ভাতা ত্যাগ এবং ভবিষ্যতে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে পরে আবার ভাতা নেওয়া শুরু করেন।

২০২৫ সালে নাসির পুনঃতদন্তের আবেদন করলে গৌরনদী উপজেলা প্রশাসন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। কিন্তু ১০ মাসেও তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি।

এদিকে মুলাদীর নুরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং অন্য কারও গেজেট ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধা হননি। তাঁর দাবি, হাইকোর্টে রিট করার পর বর্তমানে তিনি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছেন।

সরিকল এলাকার কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রয়াত নুরুল ইসলামকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে মুলাদীর নুরুল ইসলাম গৌরনদী এলাকায় যুদ্ধ করেছেন—এমন তথ্য তাদের জানা নেই বলেও জানিয়েছেন তারা।

তদন্ত প্রতিবেদন দিতে দেরির বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম বলেন, কেন এখনো তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি, তা খতিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একই গেজেট নম্বর ঘিরে দুই ব্যক্তির মুক্তিযোদ্ধা দাবি এবং দীর্ঘদিনেও তদন্ত শেষ না হওয়ায় এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গেজেট ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে দ্রুত প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক।